September 26, 2022
বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক?

বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক?

বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক? প্রশ্নটি উত্থাপন করা বেশ সহজ হলেও এর উত্তর তৈরি করা বেশ কঠিন একটি ব্যাপার। বাংলা সাহিত্য আধুনিক কিনা; এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে এই নিবন্ধে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এবং, সেই আলোচনার সাপেক্ষে আমরা একটি সাধারণ যুক্তিতে আসবো। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো বাংলা সাহিত্য আধুনিক কিনা। এক্ষেত্রে আগেই বলে রাখা ভালো এটি কোন গবেষণামূলক নিবন্ধ নয়।

আর, নিবন্ধকার ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। এই নিবন্ধটি সর্বোপরি দৃষ্টিকোন থেকে দেখা হলেও এর ফলাফল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অপর একটি পরিপ্রেক্ষিতে। এক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ কোন কাকতালীয় বিষয় নয়! তাহলে, এই নিবন্ধ শুরু করা যাক বাংলা সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দিয়ে।

বাংলা সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক? এই সন্দেহের উপশম করতে চাইলে প্রথমে আমাদের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস জেনে শুরু করা প্রয়োজন। তারপরেই আধুনিকতার মাত্রা নিয়ে আলোচনা করা যাবে। বাংলা সাহিত্যকে কালবিচারে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়; প্রথমত ৬৫০- ১২০০ সাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ। দ্বিতীয়ত ১২০০- ১৮০০ সাল পর্যন্ত ধরা হয় বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ। এরপর সর্বশেষ ১৮০০ সাল থেকে শুরু হয় বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যাত্রা।

যা যোগ করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা। এরপর, বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগকে আবার বেশ কয়েকটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ১৮০০-১৮৬০ সাল পর্যন্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রস্তুতি পর্ব ধরা হয়। এরপর, ১৮৬০-১৯০০ সাল পর্যন্ত ধরা হয় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশের যুগ। ১৯০০-১৯৩০ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের রবীন্দ্রনাথ পর্ব ধরা হয়। ১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত আধিনিক বাংলা সাহিত্যের রবীন্দ্র পরবর্তী যুগ ধরা হয়। এরপর ১৯৪৭ থেকে পরবর্তী সময়ের বাংলা আধুনিক সাহিত্যকে বাংলাদেশ পর্ব হিসেবে ধরা হয়।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগঃ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ নিয়ে কথা বলতে গেলে বলা যায়, তৃতীয় শতকে বাঙলায় মৌর্য অধিকারের পর থেকে আর্যভাষার প্রভাব বিস্তার শুরু হয়; আর প্রায় হাজার বছরের যাত্রার পর প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হল চর্যাপদ। ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন আধুনিক কালের ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যাপদে বৌদ্ধ সহজিয়াদের ধর্মতত্ত্ব ও সাধন- ভজনমূলক ৪৭টি পদ পাওয়া যায়, তবে তার ভাষা সহজবোধ্য নয়; কিছু বিষয়বস্তু বোঝা যায়, কিছু যায় না। যার, কারণে চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলা হয়। তবুও শব্দের ব্যবহারের ধরন, উপমা ও অলঙ্কারের প্রয়োগ, প্রাকৃতিক বর্ণনা, সমাজচিত্র বর্ণনার বিবেচনায় এর সাহিত্যিক ও ভাষানিদর্শনগত মূল্য অপরিসীম। চর্যাপদের রচয়িতা গণকে পদকর্তা বলা হয়, যাদের “সিদ্ধাচার্য” বলা হতো এবং তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লুইপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, শবরপা প্রমুখ।

গবেষণা মতে চর্যাপদের রচনাকাল রচনাকাল খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত।

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগঃ

হাজার বছরের যাত্রার পর বাংলা সাহিত্য প্রাচীন যুগে পৌঁছে আবার অর্ধ সহস্রাব্দি যাত্রা করে মধ্যযুগের পথে। আর মধ্যযুগে পদার্পণের পর বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনার জন্য লেগে যায় আরও অর্ধসহস্র বছর। আমরা আগেই জেনেছি খ্রিষ্টীয় ১২০০- ১৮০০ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় মধ্যযুগ। মধ্যযুগকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়, প্রথমত ১৩শ- ১৪শ সাল পর্যন্ত সময়কে বলা হয় আদি- মধ্যযুগ বা চৈতন্যপর্ব। এর পরবর্তী যুগকে বলা হয় মধ্য- মধ্যযুগ বা মঙ্গলপর্ব আর, মধ্যযুগের সর্বশেষে বিকশিত হয় অনুবাদ সাহিত্য।

মধ্যযুগের সুচনা বা আদি-মধ্যযুগের প্রথম উল্লেখযোগ্য কবি হলেন বড়ু চণ্ডীদাস; এবং তিনি ১৪শ শতকের কবি ছিলেন। তিনি তার আগের কবি জয়দেব রচিত সংস্কৃত ভাষার রাধা-কৃষ্ণের প্রেমমূলক গীতিসাহিত্যের ধারার বিকাশে রাধাকৃষ্ণের প্রণয়বিষয়ক বাংলা নাট্যগীতিকাব্য রচনা করেন। এবং, চৈতন্যদেবের আগে-পরে বৈষ্ণব পদাবলির ভণিতায় একাধিক চণ্ডীদাসের নাম পাওয়া যায়। কোথাও আদি চণ্ডীদাস, কোথাও আবার কবি চণ্ডীদাস, কোথাও বা পাওয়া যায় দ্বিজ চন্ডীদাস অথবা দীন চন্ডীদাস। এবং এইসব ভিন্ন নামে চণ্ডীদাস একি মানুষ কিনা তা নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বিতরক আছে, যা ‘চণ্ডীদাস’ সমস্যা নামে পরিচিত।

এরপর বাংলা সাহিত্যের মধ্য-মধ্যযুগে চৈতন্যদেব এই বঙ্গদেশে এক নবভক্তি- ধারার প্রবর্তন করেন, যা ভাবচৈতন্যের ক্ষেত্রে একটি নবজাগরনের সূচনা করে, এবং তাঁর চৌকস ব্যক্তিত্বের কারণে বাংলায় একটি শক্তিমান সাহিত্যিকগোষ্ঠী এবং একটি বড়সড় সাহিত্যধারার সৃষ্টি হয়। মূলত বাংলা সাহিত্যের মধ্য-মধ্যযুগেই বাংলায় জীবনচরিত লেখার প্রচলন হয় এবং প্রধানত চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করেই লেখা হয় বিভিন্ন রকম জীবনচরিত। এবং, পরবর্তীতে রচিত হয় বিভিন্ন মঙ্গলকাব্য।

এরমধ্যেই আবার শুরু হয়, বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ সাহিত্যের যুগ। বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রথমেই যার নাম উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন ” রামায়ণ ” রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝা। কবি চণ্ডীদাসের পরেই তাঁর নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত রামায়ণ-ই বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় কাব্য। এরপর, ১৫১৫-১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মহাভারতের সর্বপ্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর যা কবিন্দ্র মহাভারত নামে খ্যাত। আবার, লস্কর পরাগল খাঁর নির্দেশে এটি রচিত বলে এটিকে পরাগলী মহাভারতও বলা হয়।

বাংলা অনুবাদ সাহিত্যে মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রাচীনতম হচ্ছেন শাহ মুহম্মদ সগীর। এবং, তাঁর রচিত কাব্য ইউসুফ-জুলেখা সুলতান গিয়াসুদ্দীন আজম শাহের আমলে রচিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এটি অনুবাদ করা হয় পারসি ভাষা থেকে। এবং, বাংলায় সুলতানি আমলে পারসি ভাষার সাহিত্যের অনুবাদে বিকাশিত হয় বাংলা সাহিত্য। এক্ষেত্রে কখনও পারসি ভাষার সরাসরি অনুবাদ তো কখনও ভাবানুবাদ।

মধ্যযুগের মুসলমান অনুবাদ সাহিত্যিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সৈয়দ সুলতান, শেখ পরান, সৈয়দ মর্তুজা, আবদুল হাকীম, নওয়াজিশ খাঁ, কমর আলী, মঙ্গল (চাঁদ), আবদুন নবী, মুহম্মদ ফসীহ প্রমুখ।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যঃ

১৮০১ সালের থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ ধরা হয়।  আর মূলত পাদ্রি ও সংস্কৃত পণ্ডিতরা মিলেই সূচনা করেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের স্তরটি নির্মিত হয় তাদের গদ্য-রচনার মধ্য দিয়ে। এই পরেই বাংলা সাহিত্যে আগমন ঘটে চিন্তাশীল ও সৃষ্টিশীল বাঙালি সাহিত্যিকদের। এরপরে, তৃতীয় পর্বের ব্যাপ্তি কম হলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত উৎকৃষ্ট ও প্রাচুর্যময় এবং গোটা তার প্রাধান্য বিস্তার করে বাংলা সাহিত্যে।

এই জন্য বাংলা সাহিত্য বিশারদদের ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের রবীন্দ্রপর্ব বলা হয়। তবুও সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক। এবং; তার সাহিত্য কর্মের প্রভাব বাংলা সাহিত্যে প্রখর ছিল ১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পর্যন্ত। ভারত ভাগের পর রাজনৈতিক ভাবে ভাগ হয়ে যায় বাংলা ভাষা সাহিত্য। বাংলা সাহিত্য ভাগ হয়ে যায় কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা কেন্দ্রীক আর অপর পাশে পূর্ব বাংলা হয়ে যায় সদ্যোজাত পূর্ব-পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ভিত্তিক দুটি ধারা।

আর, এক কথায় বাংলা সাহিত্য বাংলাদেশ পর্ব শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকে। বাংলা আধুনিক সাহিত্যে যারা পঞ্চকবি নামে যারা পরিচিত তাঁরা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, অতুলপ্রসাদ সেন এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। তাঁদের কবিতায় আধুনিক বাক নিয়েছে বাংলা সাহিত্যে। আর, তাঁদেরও আগে যার হাতে বাংলা কবিতায় সনেটের সূত্রপাত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে গদ্যের প্রচলন হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাত ধরে।

আর, বাংল সাহিত্যের প্রথম পঞ্চকবির পর যারা সেই কবিতা গুলোর বেষ্টনীর বাইরে গিয়ে নতুন ভাবে কবিতা চর্চা শুরু করেন তাঁরা হলেন অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাস, বিষ্ণু দে এবং সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

আর, যারা বাংলা আধুনিক সাহিত্যর উপন্যাসের হাল ধরে একে করেছে বিভিন্ন বিষয়বস্তুতে মহিয়ান, তাঁরা হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়, বেগম রোকেয়া, কাজী ইমদাদুল হক, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম।

এছাড়াও, বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যাদের সাহিত্য এটিকে আরও আধুনিক বানিয়েছে নতুন ধারার রচনার মাধ্যমে; তার হলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, নাসরীন জাহান, ইমদাদুল হক মিলন, আবুল বাশার, শহিদুল জহির, আবদুল মান্নান সৈয়দ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আহমদ ছফা, নির্মলেন্দু গুণ, জহির রায়হান, হুমায়ূন আজাদ, আনিসুল হক, মহাম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ।

বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক?

হয়তো ভাবছেন এতসব গৌরবের কথা বলার পরও কেন প্রশ্নবিদ্ধ করছি? তার কারণ, বর্তমান সময়ে আমাদের মেধা ও মননশীলতায় ধস নেমেছে! আর, সেই কারণে, বলা যায় ব্লাকহোলের মুখে বাংলা সাহিত্য! তাই আবারো প্রশ্ন করতে হয় বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক?

এখন আসি মূল প্রসঙ্গে; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যারা বাংলা সাহিত্যের হাল ধরেছেন, তাঁরা সবাই বিংশ শতাব্দীর মানুষ। কিন্তু, এই একবিংশ শতাব্দিতে এখন পর্যন্ত নতুন কোন সাহিত্যিক এর খোঁজ তেমন মিলছে না। আর, তার পেছনেও রয়েছে আরও বিভিন্ন রকমের বিষয়বস্তু রয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক প্রহসন আর প্রবঞ্চনা, আর্থ- সামাজিক অস্থিতিশীলতা, শিক্ষা ব্যবস্থার নামে অশিক্ষার প্রসার, এবং নতুন করে শিল্প-বিপ্লবের শুরু হওয়ার কারণে সাহিত্যচর্চা কমে যাওয়া। আর, কম-বেশি সব জায়গাতেই দুর্নীতি আর আগ্রাসী রাজনীতি হওয়ার কারণে কমে আসছে সাহিত্য প্রকাশ, বলা যায় বাক স্বাধীনতাও হয়তো বর্তমান সাহিত্যে নেই।

প্রত্যেক বছর বিপুল পরিমান বই প্রকাশিত হলেও তার ভেতর খুঁজে পাওয়া যায়না, ভালো মানের কোন সাহিত্য উপাদান, কিংবা পাওয়া যায়না গভীর কোন বিষয়বস্তু। তাই, বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কালের যাত্রা শুরু হলেও, বর্তমানে বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক? প্রশ্নটি তুলতেই হয়।

আর এর উত্তরে আমি বলবো, বাংলা সাহিত্য আধুনিক। কিন্তু, এই যাত্রা যদি স্থগিত হয়ে যায় তবে অন্যান্য ভাষার সাহিত্য যখন অত্যাধুনিক হয়ে যাবে; আর আমাদের ভাষা সাহিত্য আধুনিক হওয়া সত্ত্বেও আমরা বাংলা সাহিত্য কি আধুনিক? প্রশ্নটিতে পরে থাকব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.